জুলাই-মার্চ

আয় বাড়লেও নিট মুনাফা কমেছে রেনাটার

চলতি ২০২৪-২৫ হিসাব বছরের জুলাই-মার্চ সময়ে ওষুধ খাতের তালিকাভুক্ত কোম্পানি রেনাটা পিএলসির ব্যবসা থেকে আয় বেড়েছে প্রায় ১৩ শতাংশ।

চলতি ২০২৪-২৫ হিসাব বছরের জুলাই-মার্চ সময়ে ওষুধ খাতের তালিকাভুক্ত কোম্পানি রেনাটা পিএলসির ব্যবসা থেকে আয় বেড়েছে প্রায় ১৩ শতাংশ। যদিও এ সময়ে কোম্পানিটির কর-পরবর্তী নিট মুনাফা প্রায় ৩৫ শতাংশ কমেছে। কোম্পানি সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

অনিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন পর্যালোচনায় দেখা যায়, চলতি ২০২৪-২৫ হিসাব বছরের প্রথম তিন প্রান্তিকে (জুলাই-মার্চ) রেনাটার আয় হয়েছে ৩ হাজার ১৩৩ কোটি টাকা। যেখানে আগের হিসাব বছরের একই সময়ে আয় ছিল ২ হাজার ৭৮১ কোটি টাকা। এ সময়ে কোম্পানিটির আয় বেড়েছে ১২ দশমিক ৬৩ শতাংশ। আলোচ্য সময়ে রেনাটার কর-পরবর্তী নিট মুনাফা হয়েছে ১৬৮ কোটি ১৯ লাখ টাকা। আগের হিসাব বছরের একই সময়ে মুনাফা ছিল ২৫৮ কোটি ৫৬ লাখ টাকা। এক বছরের ব্যবধানে কোম্পানিটির নিট মুনাফা কমেছে ৩৪ দশমিক ৯৫ শতাংশ।

চলতি হিসাব বছরের প্রথম তিন প্রান্তিকে রেনাটার শেয়ারপ্রতি সমন্বিত আয় (ইপিএস) হয়েছে ১৪ টাকা ৬৬ পয়সা, আগের বছরের একই সময়ে যা ছিল ২২ টাকা ৫৪ পয়সা। ৩১ মার্চ ২০২৫ শেষে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি সমন্বিত নিট সম্পদমূল্য (এনএভিপিএস) দাঁড়িয়েছে ২৯৯ টাকা ২৩ পয়সায়।

চলতি হিসাব বছরের তৃতীয় প্রান্তিকে (জানুয়ারি-মার্চ) রেনাটার আয় হয়েছে ১ হাজার ৬৫ কোটি ৭৫ লাখ টাকা, আগের হিসাব বছরে যা ছিল ৯২১ কোটি ১০ লাখ টাকা। আলোচ্য হিসাব বছরে কোম্পানিটির কর-পরবর্তী নিট মুনাফা হয়েছে ৫৫ কোটি ৬২ লাখ টাকা, আগের হিসাব বছরে নিট মুনাফা ছিল ৭২ কোটি ৬২ লাখ টাকা। তৃতীয় প্রান্তিকে রেনাটার ইপিএস হয়েছে ৪ টাকা ৮৫ পয়সা, আগের হিসাব বছরে যা ছিল ৬ টাকা ৩৩ পয়সা।

মূলত উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি, সরবরাহে খরচ বৃদ্ধি ও সুদের হার বাড়ার কারণে কোম্পানিটির ব্যয় বেড়েছে, যার প্রভাবে আয় বাড়া সত্ত্বেও নিট মুনাফা কমে গেছে বলে জানিয়েছেন কোম্পানিটির কর্মকর্তারা।

সর্বশেষ সমাপ্ত ২০২৩-২৪ হিসাব বছরে বিনিয়োগকারীদের জন্য ৯২ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ ঘোষণা করেছে রেনাটার পর্ষদ। আলোচ্য হিসাব বছরে কোম্পানিটির ইপিএস হয়েছে ৩১ টাকা ৫৩ পয়সা, আগের হিসাব বছরে যা ছিল ২০ টাকা ৪০ পয়সা। ৩০ জুন ২০২৪ শেষে কোম্পানিটির এনএভিপিএস দাঁড়িয়েছে ২৯৫ টাকা ৫৬ পয়সায়।

সমাপ্ত ২০২২-২৩ হিসাব বছরে বিনিয়োগকারীদের জন্য ৬২ দশমিক ৫ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ ঘোষণা করে রেনাটার পর্ষদ। আলোচ্য হিসাব বছরে কোম্পানিটির ইপিএস হয়েছে ২০ টাকা ৪০ পয়সা, আগের হিসাব বছরে যা ছিল ৪৪ টাকা ৫৬ পয়সা। ওই বছরের ৩০ জুন শেষে কোম্পানিটির এনএভিপিএস দাঁড়িয়েছে ২৬৬ টাকা ৮৭ পয়সায়।

১৯৭৯ সালে পুঁজিবাজারে আসা রেনাটা পিএলসি ১৯৭২ সালে মার্কিন ওষুধ জায়ান্ট ফাইজারের একটি কোম্পানি হিসেবে বাংলাদেশে যাত্রা করে। ১৯৯৩ সালে ফাইজার স্থানীয় শেয়ারহোল্ডারদের কাছে তাদের মালিকানা বিক্রি করে চলে যায় এবং কোম্পানির নাম ফাইজার (বাংলাদেশ) লিমিটেডের বদলে হয় রেনাটা লিমিটেড। বর্তমান নাম রেনাটা পিএলসি। কোম্পানিটির অনুমোদিত মূলধন ২৮৫ কোটি ও পরিশোধিত মূলধন ১১৪ কোটি ৬৯ লাখ ৬০ হাজার টাকা। রিজার্ভে রয়েছে ৩ হাজার ২৭২ কোটি ১৪ লাখ টাকা। কোম্পানিটির মোট শেয়ার সংখ্যা ১১ কোটি ৪৬ লাখ ৯৬ হাজার ৪৯০। এর মধ্যে ৫১ দশমিক ২৯ শতাংশ উদ্যোক্তা পরিচালক, ২১ দশমিক ১২ শতাংশ প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারী, ২০ দশমিক ৬৫ শতাংশ বিদেশী বিনিয়োগকারী ও বাকি ৬ দশমিক ৯৪ শতাংশ শেয়ার সাধারণ বিনিয়োগকারীদের হাতে রয়েছে।

আরও